স্ত্রীর জন্য কেনা হাতিটি জব্দ করবে বন বিভাগ

লালমনিরহাটের আলোচিত তুলসী রানীর হাতিটি জব্দ করবে বন বিভাগ। কারণ হাতিটি ক্রয়-বিক্রয়ে অনুমতি নেয়া হয়নি। এমনকি নেই লালন-পালনের লাইসেন্সও। লোকালয়ের হাতি পালা ঝুঁকিপূর্ণ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের বিরোধী। এছাড়াও টোটকা চিকিৎসায় বন্যপ্রাণী ব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

লালমনিরহাটের পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের দেউতিরহাট রতিধর এলাকায় ১০ বছর ধরে পানি পড়া ও টোটকা চিকিৎসা করেন তুলসী রানি। স্থানীয়রা বলছেন, তুলসী এর আগেও পশুপাখির প্রতি যত্নবান হওয়ার ‘দৈব আদেশ’ পাওয়ার কথা তাদের বলেছেন। সে কারণে কয়েক বছর আগে তার স্বামী তাকে একটি ঘোড়া এবং পরে রাজহাঁস ও ছাগল কিনে দেন। বাড়িতে সেগুলোর পরিচর্যা করেন তিনি। সম্প্রতি তিনি হাতির জন্য স্বামীর কাছে বায়না ধরেন।

তুলসী রানি স্বপ্নে আদেশ পেয়েছেন। এ কারণে সপ্তাহ দুয়েক আগে স্ত্রী তুলসী রানিকে হাতি কিনে দেন কৃষক দুলাল চন্দ্র। ঈশ্বরের আদেশ, তাই নিরূপায় দুলাল চন্দ্র তার চাষের জমি বেচে ১৭ লাখ টাকায় কিনেছেন হাতিটি। স্বপ্নে আদেশ পেয়ে কেনা হাতি দেখতে আসছে এলাকাবাসী। হাতির দেখভালে ১৫ হাজার টাকা বেতনে রাখা হয়েছে মাহুত শরীফুলকে। হাতিকে প্রতিদিন খাবার হিসাবে কলা গাছ, ৩ কেজি ভূষি, ২ কেজি গুড় ও ২ কাদি কলা দিতে হয়।

সব মিলিয়ে হাতি পোষায় মাসে গুণতে হবে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। অথচ, এই হাতি পালনে দুলালের কোনো অনুমতিই নেই।প্রাণিগবেষকরা বলছেন, ব্যক্তিগত পর্যায়ে বাণিজ্যিক উদ্দেশে বন্যপ্রাণী প্রদর্শন করা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের লঙ্ঘন। লোকালয়ে হাতি পোষা ঝুঁকিপূর্ণও। এটি যেকোনো সময় মানুষের জানমালের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এছাড়াও টোটকা চিকিৎসায় বন্য প্রাণী ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

বনবিভাগের হাতি লালন-পালন বিধিমালায় বলা আছে, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় হাতি পালনে ২০ আর এর বাইরে দিতে হবে ১০ হাজার টাকা। বনবিভাগের অনুমতি ছাড়া হাতি বিক্রি, দান, বিনিময় বা হস্তান্তর করতে পারবে না কোনো ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান। লালমনিরহাটের হাতির বেলায় সেসবের কিছুই মানা হয়নি।হাতি লালনপালনের বিধি অনুযায়ী বাচ্চা প্রসবের ৯০ দিনের মধ্যে কানে ট্যাগ, চারণ সার্টিফিকেট ও পজেশন ফি দেয়ার বিধান রয়েছে।