‘সাকিব বারে বারে বলছিল মাঠটা আরেকটু শুকাও’

অ্যাডিলেড থেকে: বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ মানেই তুমুল লড়াই। সঙ্গে আম্পায়ারদের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং তা বাংলাদেশের বিপক্ষে যাওয়া। এবারও ব্যতিক্রম হল না। অ্যাডিলেড ওভালে বুধবারের ম্যাচে আম্পায়ারদের দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অবশ্য অভিযোগের দুয়ার খোলা নেই আপাতত।আইসিসির সভায় বিষয়টি অন্যদের নজরে আনবেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্তারা। টাইগারদের টিম হোটেল হিলটন অ্যাডিলেডে সকালে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান জালাল ইউনুস আগের রাতের ম্যাচের দুটি বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।

দলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ থাকলেও তা প্রকাশের সুযোগ নেই।‘কথা হয়েছে (নিজেদের মধ্যে) আপনারা তো টিভিতেই দেখেছেন। সবাই আপনারা চোখের সামনেই দেখেছেন। দুটি ইস্যু ছিল। একটা ছিল যে ফেক থ্রো। ফেক থ্রোটা আম্পায়ারদের নোটিশে আনা হয়েছে। তবে আম্পায়ার বলেছে আমি এটা খেয়াল করিনি। যার জন্য সে রিভিউতে যায়নি। সাকিব এটা নিয়ে অনেক আলাপ করেছে এরাসমাসের (ফিল্ড আম্পায়ার) সাথে। খেলার পরও আলাপ করেছে। একই সাথে মাঠ ভেজা নিয়েই আলাপ হয়েছে। সাকিব বারে বারে আম্পায়ারকে বলছিল তুমি আরেকটু সময় নিয়ে মাঠটা আরেকটু শুকাও।

শুকানোর পর খেলা শুরু করো। কিন্তু তারা, আম্পায়ার্স ডিসিশন ইজ ফাইনাল। সে জন্যই এখানে তর্ক-বিতর্কের কোনো সুযোগ ছিল না। সিদ্ধান্ত একটা, আপনি খেলবেন কি খেলবেন না।’বোর্ডে আলাপ প্রসঙ্গে বিসিবির এ পরিচালক বলেন, ‘এটা সহজ না, কিছু হলেই যে বোর্ডে আলাপ। এটা তো স্কুল না, কিছু হলেই হেড মাস্টারের কাছে নালিশ করবেন। এই ধরনের পরিস্থিতি না। তারপরও আমাদের মাথায় আছে এটা, প্রোপার ফোরামে গিয়ে যেন কথা বলতে পারি, সেটা আমাদের মাথায় আছে।’ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পরাজয়ের ব্যবধান ৫ রানের।

খেলা শেষে বাংলাদেশ দলের আক্ষেপ, প্রাপ্য ৫টি রান তারা পায়নি। ‘ফেক ফিল্ডিংয়ের’ অভিযোগ তোলা হলেও পেনাল্টি দেয়া হয়নি ভারতীয় দলকে।পরে বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়। মাঠ খেলার অনুপযুক্ত থাকার পরও নতুন টার্গেটে ব্যাটিং করতে বাধ্য করা হয় বাংলাদেশ দলকে। ভেজা মাঠে দৌড়াতে গিয়ে পা পিছলে রানআউট হন লিটন দাস।গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি তখনও ঝরছিল। বৃষ্টির মাঝেই চলছিল সুপার শপার। বৃষ্টি পুরোপুরি থামার আগেই পুনরায় খেলার শুরুর তোড়জোড়ে অবাক হন সবাই। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে বৃষ্টি থামার সঙ্গে সঙ্গেই সব সেটেলড হয়ে যায়। আম্পায়ারদের মাঠ পরিদর্শন করতে সেভাবে দেখা যায়নি। বিশ্বকাপ আয়োজকদের তাড়া দেখে মনে হয়েছে, লগ্ন পেরিয়ে যাবে!