‘লাল নিশান দিয়া বাঁচাও বাঁচাও কইছি, কেউ দারে আয় নাই’

ট্রলারের সেপ (পাখা) নষ্ট হইয়া গ্যাছে, চারদিকে ট্রলার আর জাইল্লা (জেলে)। তিনদিন গভীর সাগরে ভাসতাছি। লাল নিশান দিয়া বাঁচাও বাঁচাও কইছি, কিন্তু কেউ দারে আয় নাই। মোরা বুঝছি এবার আর মনে হয় বাড়িতে যাইতে পারমু না।’সোমবার সকালে বিএফডিসি ঘাটে এসে এমন কথা বললেন ‘এফবি তিনবোন’ ট্রলারের মাঝি জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনদিন ভেসে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে রোববার সন্ধ্যায় ট্রলার নিয়ে পাথরঘাটার বিএফডিসি মৎস্য ঘাটে ফেরেন ১৭ জেলে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে পাথরঘাটা থেকে ৩শ’ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে এফবি তিনবোন ট্রলারের পাখা ভেঙে যায়। পরে তিনদিন সমুদ্রে ভাসতে থাকেন ১৭ জেলে। ফিরে আসা জেলেদের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটার কালমেঘা ও চরদুয়ানী ইউপি এবং বরগুনার নলটোনা ইউপিতে।‘এফবি তিনবোন’ ট্রলারের সহকারী মাঝি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ট্রলারের সেপ (পাখা) ভেঙে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভয়ে সবার খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

প্লাস্টিক নিয়ে প্রস্তুত ছিলাম। সাগরে তুফান থাকায় মাঝে মধ্যে ডুবে যাওয়ার ভয়ও হয়েছিল।তিনি বলেন, ট্রলার ভাসা অবস্থায় আশপাশের অনেক ট্রলারে জেলেদের সহযোগিতা চেয়েছি। কিন্তু কেউ আসেনি। সাগরে আপন কেউ ছিল না আল্লাহ ছাড়া।জাহাঙ্গীর আরো বলেন, ট্রলারে পাখা ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই সাগরে ভাসতে থাকি। একপর্যায়ে ট্রলারে থাকা লাল নিশান দিয়ে বাঁচাও বাঁচাও বলেছি।

তবু কেউ ফিরে চাননি। আমার ছেলেসহ ১৬ জন জেলে নিয়ে চিন্তায় পড়ি। দুইদিন কিছুই খেতে পারিনি। তারপর বাদাম দিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখি। সাগরে পানির স্রোত পশ্চিমে থাকায় আস্তে আস্তে ভারতের দিকে যাওয়া শুরু করে। আমরা খুব ভয়ে পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম ভাসতে ভাসতে ভারতে চলে যাব।

পরে নেটওয়ার্ক পেলে ট্রলার মালিককে ফোন দেই। তিনি একটি ট্রলার পাঠান।‘এফবি তিনবোন’ ট্রলারের মালিক মো. হেমায়েত মল্লিক বলেন, শনিবার রাতে সুন্দরবনের মেহের আলী পয়েন্টে আসার পর মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়ায় মাঝি আমাকে ফোন দেন। রোববার সকালে তাদের উদ্ধারে ২০ জেলেসহ এফবি হাজেরা নামে একটি ট্রলার পাঠাই।