যে কারণে বাংলাদেশে এসে অশ্রু সিক্ত শ্রীলেখা

টালিগঞ্জের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র ঢাকায় এসেছেন রবিবার। তার এবারের ঢাকার সফর বিশেষ একটি কারণে। এবার আর অভিনেত্রী হিসেবে নয়, একজন নির্মাতা হিসেবে তিনি এদেশে এসেছেন। ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’র ২১তম আসরে জায়গা পেয়েছে তার প্রযোজিত ও নির্মিত সিনেমা ‘এবং ছাদ’।

তবে ছবিটি নিয়ে অনেকটা আক্ষেপও ঝরলো তার কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘আমার এ ছবিটি সদ্য সমাপ্ত কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও জমা দেওয়া হয়েছিল। কেন জানি তারা ছবিটি প্রদর্শনের জন্য সিলেক্টই করলো না। আমার দেশে তা হলো না। কলকাতা আমাকে না বুঝলেও ঢাকা বুঝেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার শহরে আমাদের ছবির প্রদর্শনীতে আমার ছবি সিলেক্ট হবে না, এমন ধারণা আগেই ছিল। হয়ওনি। আমি কলকাতার মেয়ে। আমার জন্মস্থানও বাংলাদেশ নয় কলকাতা। তবে বাবার বাড়ি বাংলাদেশে।’

পৈতৃক বাড়ির বিষয়টি আসতেই কিছুটা অশ্রু সিক্ত হয়ে ওঠেন শ্রীলেখা। কারণটা কিছুদিন আগেই বাবাকে হারিয়েছেন তিনি। শ্রীলেখার দাদাবাড়ি মাদারীপুরের ঘটমাঝি গ্রামে। দেশভাগের সময় বাধ্য হয়ে ভারতে পাড়ি দিতে হয়েছে তাদের। ২০১৭ সালের আগে বাবা সন্তোষ মিত্রকে নিয়ে পূর্বপুরুষের ভিটার খোঁজে বাংলাদেশে এসেছিলেন শ্রীলেখা।

অশ্রু আড়াল করে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশটা আমার কছে আবেগের জায়গা। বাবাকে নিয়ে এর আগে ঘুরে গেছি। বাবা আমাদের পুরনো বাড়ির ছাদে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। বাবা অনেক কথাই বলেন বাংলাদেশ নিয়ে। দেশভাগের সময় আমরা যখন কলকাতায় যাই একদম নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলাম। অথচ আমরা জমিদার পরিবারের লোক। সেখান থেকে সংগ্রাম করতে করতে আমাদের প্রজন্ম বা আমি এ পর্যায়ে এসেছি।’

শ্রীলেখার দ্বিতীয় নির্মাণ ‘এবং ছাদ’। এর আগে ‘বেটার হাফ’ নামের আরেকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন শ্রীলেখা। তবে নির্মাতার চেয়ে অভিনয়শিল্পী হিসেবেই ভারত ও বাংলাদেশে বেশি পরিচিতি রয়েছে ওই অভিনেত্রীর।