মৃত্যুর আগে শেষ কথায় মাকে যা বলেন তিন্নী

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় নিজ ঘর থেকে গত শুক্রবার রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্রী উলফাত আরা তিন্নীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরইমধ্যে হিসাব বিজ্ঞানে স্নাতোকোত্তর করা তিন্নীর মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে মেধাবী এ ছাত্রী মৃত্যুর আগে মাকে কষ্টের শেষ কথাগুলো বলে যান। আর সেই কথাগুলো জানিয়েছেন মা হালিমা বেগম।পরিবারের দাবি, সাবেক দুলাভাইয়ের কাছে লাঞ্চিত হওয়ায় তিন্নী মৃত্যুর মুখে ধাবিত হন। তাই আত্মহত্যা নয়, ঘটনাটিতে হত্যা বলে উল্লেখ করছে তিন্নীর পরিবার।

মৃত তিন্নীর মা হালিমা বেগম জানান, দোতলায় তিন্নীর রুম থেকে সাবেক জামাই জামিরুল ও তার সঙ্গীরা বের হয়ে যায়। তখন তিন্নী নিচতলায় মায়ের রুমে ঢুকে প্রশ্ন করে ‘বাইরের লোক কেন আমার রুমে প্রবেশ করল মা? আমার তো সব শেষ! আমার আর বেঁচে থেকে লাভ কি!’ এই বলে তিন্নী নিজ রুমে চলে যায়। পরে রুমের ফ্যানের সঙ্গে তিন্নীকে ঝুলতে দেখি।

তিন্নীর খালাতো ভাই মখলেছুর রহমান জানান, শৈলকুপার শেখপাড়া গ্রামে ইউসুফ আলীর বড় মেয়ে মিন্নীর সঙ্গে প্রতিবেশী জামিরুলের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েকদিন পর সংসারে বনিবনা হচ্ছিল না তাদের। তাই মিন্নীর সঙ্গে জামিরুলের বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের কিছুদিন পর মিন্নীকে ফেরত নিতে বেপরোয় হয়ে উঠে সাবেক স্বামী জামিরুল। এতে মিন্নীর পরিবারকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ শুরু করে।

তিনি আরো জানান, বেপরোয়া জামিরুল বৃহস্পতিবার রাত ১০ টায় ১০ থেকে ১২ জনকে নিয়ে সাবকে শ্বশুর বাড়িতে হামলা করে। এক পর্যায়ে বাড়ির দোতলার একটি কক্ষে গিয়ে দরজ লাগিয়ে তিন্নীকে নির্যাতন করা হয়।মৃত তিন্নির বড় বোন মিন্নী বলেন, জামিরুল ও তার লোকজন দোতলায় উঠে তিন্নীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু করেছে। তাই তিন্নীকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ফ্যান থেকে নামিয়ে তিন্নীকে দ্রুত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করেন।

ময়নাতদন্তকারী কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক রুমন রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে তিন্নীর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে ধরা হচ্ছে। তবে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অন্য কোনো ঘটনা আছে কিনা তা জানা যাবে। প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত বলা যাবে।ঝিনাইদহের এএসপি (শৈলকুপা সার্কেল) আরিফুল ইসলাম জানান, হামলাকারীরা তিন্নীর সঙ্গে এমন কিছু করেছে যা তাকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিতে পারে। এখনো মৃত্যুটি রহস্যজনক। এটা আত্মহত্যা নাকি হত্যা তা ময়নাতন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে পরিষ্কার হবে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে সাবেক দুলাইভায়ের হামলার পর ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উলফাত আরা তিন্নীকে। তিন্নী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী। তার মরদেহ উদ্ধার করার পর সহপাঠীসহ এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেছেন।