বন্ধ কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।এদিকে মহামারিতে আর্থিক সংকটে কোনো কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়ে গেলে, শিক্ষার্থীদের সরকারি স্কুলে ভর্তির নির্দেশ দিয়েছে সরকার।স্কুলের হুল্লোড় কবে ফিরবে তা এখনও অনিশ্চিত। সঙ্গত কারণেই বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। অলস পড়ে আছে ক্লাসরুম।

রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক গণস্বাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, করোনার ঝুঁকি না কমা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফেরা হচ্ছে না।এ সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে বলেন তিনি।

চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যায় দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এদিকে,করোনা ঝুঁকির কারণে খোলা যাচ্ছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষাজীবনের পরবর্তী ধাপে এগুনোর প্রক্রিয়া নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা, নানা ধরনের তৎপরতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের বাসায় বসে পড়াশোনা চালিয়ে নেয়ার ওপরই দিতে হবে সবচেয়ে বেশি জোর।

স্কুল বন্ধ। দিনের পর দিন ঘরবন্দি অবস্থায় পড়াশোনায় মন বসানোও দায়। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার দরবেশনগর বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া লাবণ্যের মতো দশা দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর।সময় কাটানোর অনুষঙ্গগুলো কমে আসছে দিন দিন। হাঁপিয়ে উঠছেন বাবা মা’রাও।এক মা বলেন, যতই অনলাইন বলুক, আসলে এটা হয় না! আর কয়টা মানুষই বা অনলাইনে পড়তে পারছে।

আরেক নারী বলেন, আমি একজন চাকরিজীবী মা; বাসায় সন্তানদের সময় দিচ্ছি। কিন্তু তারপরেও তারা স্কুলের পড়াশোনাটাকে খুবই মিস করে।শিক্ষাবিদরা মনে করেন, বাসায় পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আরো তৎপর হওয়া উচিৎ সরকারের।শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, সরকার, মন্ত্রণালয়, শিক্ষাবোর্ড সবাই মিলে আমাদের শিক্ষকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে, শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে হবে অভিভাবকদের বরতে হবে যে, তাদেরও একটা দায়িত্ব আছে ছেলে-মেয়েরা যাতে পড়ালেখায় মনোনিবেশ করে।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, মহামারীতে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিশুরা যাতে মানিয়ে নিতে পারে, সে জন্য তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান নেহাল করিম বলেন, বাবা-মা তো তাদের সন্তানদের রাস্তায় ছেড়ে দেবে না। ছাদেও দেয়া ঠিক হবে না। এখানে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে। সুবিধা সব দেয়া ঠিক হবে না, একটু অবসুবিধায় থাকতেই হবে। আর এই যে অনলাইনে লেখাপড়া এটা কিন্তু সবার পক্ষে সম্ভব না।এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে পরিবারকেই।