নতুন নিয়ম, বিমানে আবারও মিলবে খাবার

করোনার কারণে দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল পাশের দেশ ভারতের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীন বিমান চলাচল।এখনও তা স্বাভাবিক হয়নি। একটু একটু করে বিমান পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রনালয়।ভারতে আনলক পর্বে এবার বিমানে খাবার পরিবেশন করা যাবে। করোনা মহামারীর কারণে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা তুলে নিল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

তবে এখনও খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ থাকছে।নতুন নিয়মে সামনের আসনের পিছনে থাকা ইনফ্লাইট এন্টারটেনমেন্ট স্ক্রিনও চালু করা যাবে।তবে সেক্ষেত্রেও মানতে হবে কেন্দ্রের ঠিক করে দেওয়া নিয়ম।

এদিকে,বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে ২০২০ সালের প্রথমার্ধে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছে ব্রিটিশ অ্যারোস্পেস জায়ান্ট রোলস রয়েস। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির নিট ক্ষতি হয়েছে ৫৪০ কোটি পাউন্ড। রোলস রয়েসের প্রধান নির্বাহী ওয়ারেন ইস্ট বলেন, কভিড-১৯ ২০২০ সালে আমাদের সামগ্রিক কার্যাবলির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, কমে গেছে চাহিদা। তার মতে, আগামী পাঁচ বছরেও চাহিদা ২০১৯ সালের পর্যায়ে ফিরে আসবে না। খবর এএফপি ও বিবিসি।

এদিকে স্থানীয় সময় বুধবার জেট ইঞ্জিন নির্মাণকারী রোলস রয়েস যুক্তরাজ্যে তাদের তিন হাজার কর্মী ছাঁটাই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নটিংহ্যামশায়ার ও ল্যাঙ্কাশায়ারের কারখানা বন্ধের বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। মূলত করোনা সংক্রমণ প্রেক্ষাপটে ব্যয়সংকোচনের লক্ষ্যে আগেই রোলস-রয়েস তার বৈশ্বিক কর্মী বাহিনীর এক পঞ্চমাংশ ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। সত্যি বলতে কোম্পানিটি বর্তমানে তার ইতিহাসের বৃহত্তম পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ওয়ারেন ইস্ট বলেন, চলতি বছর এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী রোলস-রয়েসের সাড়ে চার হাজারের মতো কর্মী কোম্পানি ছেড়ে চলে গেছেন। বিশ্বে তাদের মোট কর্মী রয়েছে ৫০ হাজার, যার প্রায় অর্ধেকেরই অবস্থান যুক্তরাজ্যে। ইস্ট আরো বলেন, এ বছর রোলস রয়েস ৫০০ জেট ইঞ্জিন সরবরাহের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনোমতে এর অর্ধেক পরিমাণ সরবরাহ করা যেতে পারে। এছাড়া কোম্পানিটি তার স্পেনের আইটিপি অ্যারো ইউনিট এবং অন্য সম্পদ বিক্রি করে অন্তত ২০০ কোটি পাউন্ড সংগ্রহের কথা ভাবছে।

মূলত রোলস রয়েস ইঞ্জিন বিক্রি করে নয়, বরং সেগুলোর ব্যবহারের মধ্য দিয়ে উপার্জন করে থাকে। এর মানে হলো, উড়োজাহাজ ল্যান্ডেড অবস্থায় থাকলে আয়ও থেমে যায়। আর মহামারীর কারণে বিশ্বব্যাপী ঠিক এ ঘটনাই ঘটেছে। করোনাসংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে বসে থাকতে হয়েছে রোলস রয়েসের ইঞ্জিন ব্যবহারকারী উড়োজাহাজগুলোকে।এ অবস্থায় কোম্পানিটি জানিয়েছে, বিমান পরিবহন খাতের চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে ব্যালান্স শিটকে শক্তিশালী করতে তারা বিভিন্ন বিকল্প উপায় খতিয়ে দেখছে। তারা যেকোনোভাবেই উদ্ভূত পরিস্থিতি সামলে সামনের দিনে মুনাফায় ফিরতে চাইছে।