ধর্ষণ-গুম নয়, প্রেমিকের সঙ্গে ৫০ দিন পালিয়ে ছিল জিসা মনি

নারায়ণগঞ্জের জিসা মনি এখন দেশজুড়ে আলোচিত নাম। ৫১ দিন পরে জিসার জীবিত ফিরে আসা, ৫০ দিন সে কোথায় ছিল, কার সঙ্গে ছিল, কী অবস্থায় ছিল সেই প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে মানুষের মনে। এদিকে জিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে—মামলার তিন আসামির এমন জবানবন্দি পুলিশের তদন্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

ব্যাপক সমালোচনার মুখে গতকাল বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শামীম আল মামুনকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আসামির পরিবারের অর্থ গ্রহণের অভিযোগ আছে। আছে নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগও।

তাঁর প্রত্যাহারের বিষয়টি একটি জাতীয় দৈনিককে নিশ্চিত করেছেন পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা পরিদর্শক ইকবাল হোসেন। পুলিশ বলছে, রহস্য উদ্ঘাটনে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিবার, পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, শহরের দেওভোগ পাক্কারোড এলাকায় বসবাসকারী হোসিয়ারি শ্রমিক জাহাঙ্গীর হোসেনের দুই মেয়ের মধ্যে জিসা মনি (১৫) ছোট। এক বছর আগে ইকবাল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে জিসার সম্পর্ক হয়।

এক পাওয়ার কোম্পানির সেলসম্যান ইকবাল পণ্ডিতের (৪০) সঙ্গে জিসার সম্পর্ক টেকেনি বেশিদিন। এর কিছুদিনের মধ্যেই বন্দর উপজেলার বুরণ্ডী এলাকার আব্দুল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৪ জুলাই তারা শীতলক্ষ্যা নদীর ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় বেড়াতে যায়। জিসা চিপস খেতে চাইলে তাকে সেখানে বসিয়ে রেখে চলে যান আব্দুল্লাহ। দীর্ঘক্ষণ ফিরে না আসায় জিসা ইকবালকে ফোন করে।

সেদিনই রাত ১০টায় জিসাকে নিয়ে ইকবাল তাঁর বড় ভাইয়ের যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলের বাসায় ওঠেন। পরে তাঁরা অবস্থান নেন চাষাঢ়ায় ইকবালের খালাতো ভাইয়ের বাসায়। সেখানে কিছুদিন থেকে তাঁরা চলে যান মুন্সীগঞ্জ এলাকায় তাঁদের এক আত্মীয়ের বাসায়। পরে বন্দরের নবীগঞ্জ কুশিয়ারা এলাকায় রুম ভাড়া নেন। এভাবে প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলে হঠাৎই ২৪ আগস্ট জিসা তার পরিবারের কাছে এক মোবাইল দোকানির মাধ্যমে চার হাজার টাকা চায়।

মেয়ে মারা গেছে এমন অবস্থায় টাকা চাওয়া অবিশ্বাস্য হওয়ায় মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে চান জিসার মা-বাবা। বিষয়টি তাঁরা জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে। তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে জিসার অবস্থান ওই মোবাইল দোকানি থেকে জেনে জিসাকে উদ্ধার করা হয় ওই দিন রাতেই। একই সঙ্গে ইকবালকেও আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। জিসার মা রেখা আক্তার একই জাতীয় দৈনিককে এসব নিশ্চিত করেছেন।

ইকবালের বিরুদ্ধে রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। ২৭ আগস্ট তাঁর রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এদিকে জবানবন্দি দেওয়া ও কারাগারে থাকা মামলার তিন আসামির আইনজীবী অ্যাডভোকেট রোকন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা তিন আসামির আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক পেপার ও ১২২ ধারায় জিসা মনির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কাগজের নকল চেয়ে আবেদন করেছি।

কিন্তু কোর্ট জিআরও সেটা দিতে অস্বীকার করেছেন।’ অন্যদিকে আব্দুল্লাহর জামিন আবেদনের শুনানি আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হবে। অন্য দুজনের জামিন আবেদন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আইনি লড়াই করে আমরা তিনজনকেই মুক্ত করে আনব ইনশাআল্লাহ।’ জিসা মনির বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমরা চাই নির্দোষ যারা তারা যেন সাজা না পায়।’ মামলা তুলে নেওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করে বলেন, মামলা না তুলতে তাকে কেউ কোনো চাপ দিচ্ছে না।’ সূত্র: কালের কণ্ঠ।