লাশের সারা শরীরে নখের আঁচড়, মুখে কামড়ের দাগ

সরল বিশ্বাসে বান্ধবী আইভীর ডাকে সাড়া দেন কলেজ পড়ুয়া ইসরাত জাহান মিম। কিন্তু এর পরদিনই বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত পুকুরে মেলে তার লাশ। এরপর প্রভাবশালীদের চাপে তড়িঘড়ি দাফনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। তবে মিমের লাশটি গোসলে নেয়ার পর হতভম্ব হয়ে ওঠেন উপস্থিত সবাই। কারণ লাশের সারা শরীরে ছিল নখের আঁচড়। আর মুখে ছিল কামড়ের দাগ।মিমের বাড়ি রংপুর নগরীর দক্ষিণ কুকরুল এলাকায়। তার বাবার নাম আব্দুল মালেক। তিনি ভ্যানে করে পিঁয়াজু বিক্রি করেন। মিম রংপুর সরকারি সিটি কলেজের বাণিজ্য বিভাগ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল।

কন্নাজড়িত কণ্ঠে মিমের বাবা আব্দুল মালেক বলেন, নগরীর জুম্মাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ভ্যানে করে পিঁয়াজু বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি। এ আয় দিয়েই সংসার ও ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানো হয়।

তিনি বলেন, আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। মিম সবার বড়। ছোটবেলা থেকেই মিম মেধাবী ছিল। রংপুর ভোকেশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করার পর রংপুর সরকারি সিটি কলেজে বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হয়। এবার তার এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা। লেখাপড়া শেষ করে বড় ব্যাংক অফিসার হওয়ার স্বপ্ন ছিল মিমের। কিন্তু তা আর হলো না। মেয়ের সব স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে তার বান্ধবী আইভি, মুন্না ও আল আমিন ওরফে টাইগার। আইভি আর মুন্না আপন ভাই-বোন।

নিহতের মা জানান, ৬ জুন দুপুরে তার মেয়েকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন বান্ধবী আইভি। এরপর আর বাড়ি না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়। পরদিন বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত একটি পুকুর থেকে মেয়েটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পানিতে ডুবে মারা গেছে মনে করে ওই দিনই তাকে মুনশিপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মিমের বাবা বলেন, আইভির সহযোগিতায় আমার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে মুন্না ও আল আমিন। তারা দুজনই মিমকে একাধিকবার প্রেমের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু মেয়েটি সাড়া না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।

আব্দুল মালেক বলেন, মিমকে গোসল করিয়েছেন আমার শ্যালিকা নাসরিন বেগম। তিনি আমাকে জানিয়েছেন, ‘মিমের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নখের আঁচড় ছিল। গালে কামড়ের দাগ ছিল।’আমি আমার মেয়েকে আর ফিরে পাব না। যারা আমার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যেন আর কোনো বাবা-মায়ের বুক খালি না হয়।

এদিকে, এ ঘটনায় ১৬ জুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন নিহতের মা। এরপর পরশুরাম থানাকে মামলা করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয় আদালত। পরে ওই রাতেই আইভি, মুন্না ও আল আমিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরশুরাম থানার ওসি আবু মুসা জানান, দাফনের ১৬ দিন পর কবর খুঁড়ে ওই কলেজছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *