তিন দশক পর ইরাকের জন্য বাণিজ্যের দরজা খুলল সৌদি

তিন দশক পর ইরাকের জন্য বাণিজ্যিক দরজা খুলল সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার দু’দেশের মধ্যে স্থলবন্দর চালু করা হয়। ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো ওই বন্দরের কার্যক্রম শুরু হলো। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে ইরাক ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন দুই দেশের সরকার।

১৯৯০ সালে ইরাকের তৎকালীন শাসক সাদ্দাম হোসেন কুয়েতে আক্রমণ করলে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব। বন্ধ করে দেয় সীমান্ত যোগাযোগ। সাদ্দাম সরকারের পতন ও জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস নির্মূলের পর স্বাভাবিকের পথে ইরাক। স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় দেশটির সঙ্গে ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করছে সৌদি আরব।

২০১৫ সালে বাগদাদে দূতাবাস পুনরায় চালুর পর এবার দেশটির জন্য বাণিজ্যিক দুয়ার খুলল সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার সৌদি সীমান্ত ইরাকের আরার স্থলবন্দর পুনরায় খুলে দেয়া হয়। গত জুলাই মাসে সৌদি আরব ও ইরাকের মধ্যে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির ধারাবাহিকায় এবার দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে কাজ শুরু হলো।

স্থলবন্দর চালুর ফলে ইরাকের হিমায়িত খাদ্য ও বিভিন্ন পণ্য খুব সহজেই সৌদি আরবের বাজারে যাবে বলে জানান দেশটিতে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত।ইরাকে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল আজিজ আল সামারাই বলেন, ইরাক-সৌদি আরব সম্পর্ক উন্নয়নের অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি হলো। এর মাধ্যমে ইরাকের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। সৌদি কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের প্রথম উদ্যোগ সফল হলো আজ।

ইরাকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওথমান আল ঘানিমি জানান, আজকে দিনটি সত্যিই ঐতিহাসিক। ১৯৯০ সালের পর শুধু হাজিদের জন্য এই সীমান্ত খুলে দেয়া হতো। আজ ব্যবসা থেকে শুরু করে সব ধরনের কাজে এই বন্দর ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যেম প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হলো। উভয় দেশের অর্থনীতিতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেহরানের প্রভাব কমাতেই ইরাকের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগী সৌদি সরকার। আর এই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে বাগদাদ প্রশাসন। দক্ষিণের প্রতিবেশী সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক জোরালো করে অর্থনৈতিক সুবিধা নিতে চায় ইরাক।