জেনেনিন না’রী-পুরুষের যেসব শা’রীরি’ক স’মস্যায় স’ন্তান হয় না:ডা. উম্মুল খায়ের ।

কটি পরিবারে স্বা’মী-স্ত্রীর মধ্যে সেতুবন্ধ’ন হচ্ছে স’ন্তান। স’ন্তান না থাকলে স্বা’মী-স্ত্রী একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর যেমন দু:শ্চি’ন্তাগ্র’স্ত হয়ে পড়ে, তেমনি সামাজিক ভাবেও নানা ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়।সেজন্য ‘নিরবি’চ্ছিন’্ন ও হেলদি সম্প’র্কের জন্য পরিবারে স’ন্তান কাম্য। কিন্তু নানা কারণে আমা’দের সমাজে স’ন্তান ধারণ ‘ক্ষ’মতা হারা’চ্ছেন না’রী। স’ন্তান না হওয়ার ক্ষেত্রে পুরু’ষও কম দায়ী নয়।

ব”ন্ধ্যাত্ব বলতে আমর’া বুঝি যদি স’ন্তান প্র’ত্যাশী হয়ে জ’ন্ম’নিয়ন্ত্রন প’দ্ধতি ব্যবহার না করে একবছর একই ছাদের নিচে স্বা’মী-স্ত্রী থাকেন কিন্তু তারপরও স্ত্রী গ’র্ভধা’রন না করেন।এমতাবস্থায় সাধারণত দেখা যায় প্রথম একবছরের মধ্যে আশি ভাগ দম্পতি স’ন্তান লাভ করে থাকে। দশ ভাগ স’ন্তান লাভ করে দ্বিতীয় বছরে। বাকি দশভাগ কোনো ভাবেই স’ন্তান পায় না। আমর’া যদি ব’ন্ধ্যাত্বের কারণ খুঁজতে যাই তাহলে প্রথমে দেখতে হবে স’ন্তান কীভাবে জ’ন্ম নেয়।একজন মে’য়ে শি’শুর প্রথম দিকে ডি’ম্বা’নু’র পরিমাণ থাকে দশ থেকে বিশ লাখ। ধীরে ধীরে সেই শি’শু যখন প্রা’’প্তব’য়স্ক হয় বা মা’সিকে’র সময় হয় (আমা’দের দেশে মা’সিকের সময় দশ থেকে চৌদ্দ বছর।

) তখন মে’য়েদের ডি’ম্বানুর পরিমাণ থাকে চল্লিশ হাজার। বাকি ডি’ম্বানুগু’’লো ন’ষ্ট হয়ে যায়। এই সময় (১০-১৪বছর) থেকে ৫২ বছর বা আরও নির্দিষ্ট করে বললে ৪০ বছর ব’য়স পর্যন্ত প্রতি মাসে বিপুল সংখ্যক ডি’ম্বা’নু ন’ষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্রা’’প্তব’য়স্ক না’রীর।শুধু মাত্র একটি ডি’ম্বা’নু প্রতি মাসে পরি’স্ফু’টন হয়। এই মা’সিকের সময়টা হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ দিন। ১৩ বা ১৪ তম দিনে ডি’ম্বা’নু ফুটে। সেটা তখন ডি”ম্বনালী’তে আসে। যদি সে বিবা’হিত হয় তাহলে স্বা’মীর স’’ঙ্গে মি’লিত হওয়ার পর শু’ক্রা’’নুর স’’ঙ্গে নি’ষি’ক্ত হয়। তখন জা’ইগো’ট তৈরি হয়।

সেটি পরে জ’রা’য়ুর ভে’তরে ঢুকে। জ’রা’য়ুকে আক’ড়ে ধরে ভ্রু’ন তৈরি হয়। ভ্রু’নটি ধীরে ধীরে বড় হয়ে মানব শ’রীরে রূপ নেয়। সেটি প্র’সবের মাধ্যমে পৃথিবীতে আসে। এভাবে জ’ন্ম নেয় মানব শি’শু। এটি হচ্ছে স’ন্তান জ’ন্ম দেওয়ার স্বাভাবিক প’দ্ধতি।আমি আমা’র অধিকাংশ রো’গীর বেলায় দেখি ডি’ম্বানু বড় না হওয়া। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় P’oly’cystic Ov”arian Syn’dr’ome- এই জিনিসটা হয়। এছাড়া থাইর’য়েডের সম’স্যা থাকলে বা Pr’ole’ctine হ’রমোন বেড়ে গেলে ডি’ম্বা’নু পরি’ষ্ফুট’ন নাও ‘হতে পারে বা বড় নাও ‘হতে পারে।

এছাড়া এ’ন্ড্রো’মেট্রো’সি’স্ট-এর কারণেও অনেক সময় ডি’ম্বা’নু বড় না হওয়া বা প’রি”ষ্ফুটন না হওয়ার ঘ’টনা ঘটতে পারে। আরেকটি বি’ষয় হলো- মা’ন’বদে’হে যেসব প্র’জ’নন’তন্ত্র’ আছে- জ’রা’য়ু, জ’রা’য়ুর দুই পাশে ডি’ম্ব’না’লী আছে তার নিচে আছে মা’সিকের রাস্তা বা যো’নিপথ। যদি কারো ডি’ম্বনা’লী’তে সমস্যা থাকে বা বা’ধা থাকে সেক্ষেত্রেও স্বাভাবিক স’ন্তান ধারণে স’ম’স্যা দেখা দেয়।বা’ধাটা প্রধানত হয় ই’ন’ফে’কশন থেকে। ই’ফে’কশ’নের কারণে কারো ডি’ম্ব’না’লী যদি কে’টেই ফেলা হয় বা কারো যদি টি’উমা’র লা’ইগে’শন করে দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে স্বা’মী- ‘স্ত্রী মি’লন করলেও ডি’ম্বা’নু নি’ষি’ক্ত হবে না

এবার আসা যাক জ”রায়ু’র ক্ষেত্রে। জ’রা’য়ু’তে টি’উ”মা’র ‘হতে পারে। এর ফলে যদি কোনো সমস্যা হয় ”ভ্রু”’ণটা যদি জ’রা’য়ু’তে প্র’তিস্থাপন করা সুযোগ না থাকে, বা জ’রা’য়ুর’ চা’ম’ড়া যদি কোনো কারণে পা’তলা হয়, তাহলে ‘ভ্রুণ সেখানে প্র’তিস্থা’পন হবে না।তখন ওই না’রী স’ন্তান ধারনে অ’ক্ষম বলে বিবেচিত হবেন।এবার আসা যাক জ’রা’য়ু’র মুখের সমস্যায়। ই’নফে’কশ’ন হয়ে যদি কোনো স’ম’স্যা হয়, জ’রা’য়ু’র মুখ যদি সংকীর্ণ হয়, যদি বী’র্য কোনো কারণে জ’রা’য়ু’র মধ্যে প্রবেশ করতে বা’ধা পায়, তাহলেও স’ন্তা’ন লাভ করতে পারে না।

সবশেষে আসা যাক যো’নীপ’থের কথায়। যো’নী পথ যদি বাঁ’কা থাকে, যো’নী পথে যদি কোন ধরনের প’র্দা থাকে বা যো’নীপ’থে’র মুখে যদি কিছু থাকে তাহলে স্বা’মী স্ত্রী স’হবা”স করতে পারেন না। বা কোনো কারণে যদি স্পা’র্ম জ’রা’য়ুতে না ঢুকতে পারে তাহলেও স’ন্তান হবে না।প্র’জননত’ন্ত্রের আশপাশে যদি কোনো স’ম’স্যা হয়, সেক্ষেত্রে বাচ্চা ‘হতে বা’ধা সৃ’ষ্টি করে।আর কখনো কখনো স’ন্তান জ’ন্ম না নেওয়ার পেছনে কোনো কারণ-ই থাকে না।

অর্থাৎ স্বা’মী- স্ত্রী কারো কোনো সমস্যা নেই, দু`জনেই সু’স্থ এরপরও স’ন্তান গ’র্ভে আসে না, এমন ঘ’টনা ঘটতে পারে। শতকরা ১০-১৫ ভাগ ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে থাকে। পু’রু’ষদের যেসব সমস্যায় স’ন্তান হয় না এতক্ষণ যা বললাম এগু’লো না’রীর শা’রী’রি’ক সমস্যা। পুরু’ষের শা’রী’রী’ক সমস্যার জন্যও স’ন্তান জ’ন্ম না নিতে পারে। এবার পুরু’ষের সমস্যা’গু’’লো নিয়ে বলি। পুরু’ষের শু’ক্রা’’নু যদি না থাকে বা শু’ক্রা’’নু যদি কম থাকে,যদি তাদের স’হবা’সে কোনো সমস্যা হয়, সেক্ষেত্রে স’ন্তানের জ’ন্ম হবে না। নানা কারণে পুরু’ষের শু’ক্রা’’নু ন’ষ্ট হয়। পুরু’ষরা অনেক সময় গর’মে কাজ করেন।

বিশেষ করে যারা মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন, তাদের প্র’চুর গ’রমে কাজ করতে হয়। গ’রম পানিতে গো’সল করলে বা না’ইল’ন আ’ন্ডাওয়্যা’র পড়লেও শু’ক্রা’’নু ন’ষ্ট হয়। ছোট বেলায় কারো যদি মা’মস হয় বা লি’’ঙ্গ ও অ’ন্ডকো’ষ বা তার আশপাশে যদি কোন অ’পা”রে’শন হয়, বা সি”ফিলিস গনো’রিয়া জাতীয় কোন যৌ’’ন রো’গ হয়- সেক্ষেত্রে শু’ক্রা’’নু ন’ষ্ট ‘হতে পারে।আবার অনেকে নানা ধরণের ও’ষু’ধ খান। যেসব ও’ষুধের পা’র্শ্বপ্রতি’ক্রিয়া’র ফলে স’ন্তান জ’ন্ম দেওয়ার ক্ষ’মতা হা’রা’তে হয়। তবে অনেক সময় অজানা কারণেও স্বা’মী স্ত্রী স’ন্তান গ’র্ভধা’রন বা জ’ন্ম’দানের ক্ষ’ম’তা হা”রাতে পারেন। লেখক: প্রসূতি, স্ত্রীরো’গ ও ব’ন্ধ্যা’ত্ব বিশে’ষজ্ঞ এবং সা’র্জন। তিনি শমর’িতা হাসা’পা’তাল এবং শি’শু’ ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে কর্মর’ত। অনুলেখক: আলী আদনান।