জুতা পলিশের পেমেন্ট কিউআর কো‌ডে

‘স্যার জুতা পলিশ করেন নগদ টাকা দিতে হবে না। কিউআর কোডের মাধ্যমে টাকা আমার মোবাইলে দিলেই হবে। এখন আর খুচরা টাকা নিয়ে ঝামেলা নাই স্যার। কাজ শেষে মোবাইলে টাকা দিয়ে চইলা যাবেন।’ এভাবেই রাস্তায় চলাচলকারী পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছিলেন শাপলা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপরে ছাউনি টানিয়ে ফুটপাতের কোল ঘেঁষে ছোট্ট দোকান নিয়ে বসেছেন চর্মকার শাপলা। সামনে ছোট একটি বাক্সে সাজানো বিভিন্ন রংয়ের কালি, তুলি ও জুতার সোল্ড। শাপলার দোকান থেকে কেউ জুতা পলিশ করাচ্ছেন, কেউ কেউ জুতার ছিঁড়ে যাওয়া অংশ মেরামত করাচ্ছেন। দোকানের সামনে যেতেই চোখে পড়ল বাক্সের ওপর রাখা মোবাইল ব্যাংকিং নগদের কিউআর কোড।

শাপলাকে এই কিউআর কোডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করছেন ভোক্তারা। প্রথমবার দেখে বোঝার উপায় নেই নগদের কিউআর কোডের মাধ্যমে দোকানের ক্রেতাদের সঙ্গে লেনদেন করছেন শাপলা। তাইতো চলার পথে পেছন ফিরে তাকিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ।

ক্যাশলেস বা নগদবিহীন সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সেবা নিতে বা পেতে শুধুমাত্র একটা ব্যাংকের অ্যাপ থাকলেই চলবে। অ্যাপে বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে সব ব্যাংকের গ্রাহক পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। এছাড়া বিকাশ, এমক্যাশ, রকেটের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের অ্যাপ দিয়েও পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা যাবে।

মতিঝিলের সেনা কল্যাণ ভবনের সামনের ফুটপাতে দীর্ঘ বছর ধরে জুতা পলিশ করে আসছেন শাপলা। ক্যাশলেস পেমেন্ট পদ্ধতি নিয়ে শাপলা বলেন, ‘আগে জুতা কালি কইরা মানুষ হাতে টাকা দিতো। সেসময় খুচরা টাকা না থাকলে জুতা কালি করার পরও কম টাকা নেওয়া লাগত। এহন আর খুচরা টাকার ঝামেলা নাই। কালি করা শেষে মোবাইলে টাকা দিইয়া কাস্টমার চইলা যাইব, আর সঙ্গে সঙ্গে আমার বিকাশে টাকা আইয়া পরব। এইটা ভালোই হইছে, কামের ট্যাকাডা মোবাইলে জমা থাকব, এতে বাড়তি খরচ কিছুটা কমব।’শাপলার পাশেই জুতা পলিশের দোকান রয়েছে রাকেশের। সেই দোকানেও এখন কিউআর কোডের মাধ্যমে পেমেন্ট সিস্টেম চালু হয়েছে।