ছুটিতে থাকা প্রবাসীদের পুনরায় মালয়েশিয়া ফেরানোর উদ্যোগ

মহামারী করোনায় দেশে ছুটিতে এসে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের মালয়েশিয়ায় ফেরাতে দাবি তোলা হয়েছে। বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলাম মালয়েশিয়ার পুলিশ প্রধান কার্যালয়ে সেখানকার ডেপুটি আইজিপি দাতো শ্রী আচ্রিল সানি বিন হাজী আবদুল্লাহ সানির সঙ্গে দেখা করে এ দাবি করেন। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার তাদের বৈঠকে দুদেশের দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ এবং অবৈধ প্রবাসীদের বৈধতার ব্যাপারে আলোচনা হয়।

বৈঠকে দুই দেশের সরকার প্রধান করোনাভাইরাসের সময় নেওয়া সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলাম এবং মালয়েশিয়ার পুলিশের উপপ্রধান দাতো শ্রী আচ্রিল সানি বিন হাজী আবদুল্লাহ সানি। এ সময় মালয়েশিয়া থেকে দেশে ছুটিতে এসে আটকেপড়া প্রবাসীদের পুনরায় কাজে যোগ দিতে এবং অবৈধ প্রবাসীদের বৈধতা প্রদানে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন হাইকমিশনার।

এ সময় বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশংসা করেন দেশটির পুলিশের উপপ্রধান। তিনি এ ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পুলিশের উপপ্রধান বলেন, বাংলাদেশী কর্মীরা ভালো, দক্ষ সৎ এবং আন্তরিক। তবে ক্ষুদ্র অংশ অপরাধে জড়িত। বিশেষ করে প্রতারণা, সন্ত্রাস, কিডন্যাপিং, চাঁদাবাজি, জাল কাগজ তৈরি, হিউম্যান ট্রাফিকিং এবং অনলাইনে ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রোপাগান্ডা বা অপপ্রচার করে থাকে। এসব অপরাধ দুই দেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।

এ সময় অপরাধী যেই হউক, তাকে আইনের আওতায় আনার কথা জানান বাংলাদেশের হাইকমিশনার। এ সময় মহ. শহীদুল ইসলাম তার কাছে বাংলাদেশি কর্মীরা তাদের কর্মস্থলে আসা যাওয়ার সময় কোনো প্রকার হয়রানি বা গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে অনুরোধ করেন। এ সময় পুলিশের উপপ্রধান বলেন, নিরাপত্তার জন্য আইন অনুযায়ী নিয়মিত চেক করা হয়, তখন পাসপোর্ট এবং প্রাসঙ্গিক কাগজ-পত্রাদি কর্মীরা সঙ্গে রাখলে পুলিশের জন্য অনুসন্ধানে সহজ হয়। এ বিষয়টি কর্মীদের জানিয়ে দিতে হাইকমিশনারকে অনুরোধ করেন তিনি।

বৈঠকে সব প্রক্রিয়া শেষ করে ডিটেনশন সেন্টারে থাকা কর্মীদের দ্রুত মুক্তি দিতে অনুরোধ করেন বাংলাদেশি হাইকমিশনার। এ সময় ডেপুটি আইজিপি বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। বৈঠকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডিফেন্স অ্যাডভাইজার কমোডর মুশতাক আহমেদ, কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, কাউন্সেলর ( শ্রম-২) মো. হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডল এবং মালয়েশিয়ান রাজকীয় পুলিশের ইন্টারনাল সিকিউরিটি ও পাবলিক অর্ডার ডিপার্টমেন্ট’র ডেপুটি ডিরেক্টর দাতো আজরি বিন আহমাদ, সিআইডির ডেপুটি ডিরেক্টর দাতো মহ আজমান বিন আহমদ সাপরি, রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশের সেক্রেটারি ডিসিপি দাতো রামলি মোহাম্মদ ইউসুফ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইউনিট প্রধান রাজগোপাল রামদাস উপস্থিত ছিলেন।