চিকিৎসক হয়ে মায়ের স্বপ্নপূরণ, কিন্তু ফিরলেন লাশ হয়ে

মায়ের অতি আদরের সন্তান ছিলেন আরাফাত পাঠান নূয়ীম (২৬)। মায়ের প্রতিটা কথাও শুনতেন তিনি। কখনও অবাধ্য হননি। পড়ালেখায় গভীর মনোযোগ দেখে মা তাঁর প্রতি একটু বেশিই যত্নবান হয়ে ওঠেন। ক্লাসেও বরাবর প্রথম হতেন। মায়ের ইচ্ছে ছেলেকে চিকিৎসক বানাবেন, চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করবেন। মায়ের সেই স্বপ্ন ঠিকই পূরণ করেছেন নূয়ীম, কিন্তু বাড়ি ফিরেছেন লাশ হয়ে।

গতকাল শুক্রবার ভোরে ময়মনসিংহের ভালুকা হাসপাতাল রোডের বাসা থেকে মোটরসাইকেলে কর্মস্থল সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে যাচ্ছিলেন নূয়ীম। পথে সকাল ৯টার দিকে সিরাজগঞ্জের হাসপাতাল এলাকায় বালুভর্তি ট্রাকের ধাক্কায় সড়কেই নিহত হন ডা. আরাফাত পাঠান নূয়ীম।

নূয়ীম সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে ২৫০ শয্যা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ইন্টার্ন করছিলেন। তিনি শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।ডা. আরাফাত পাঠান নূয়ীম ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বান্দিয়া গ্রামের পূর্বপাড়ার হারেজ আলী পাঠান ও নিলুফা আক্তার দম্পতির ছোট ছেলে।

নূয়ীম ২০১১ সালে ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট। বড় ভাই রিয়াদুল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।নিহত নূয়ীমের আত্মীয় নাজমুস সুমন জানান, নূয়ীমের মৃত্যুর খবর শোনার পর তাঁর মা কয়েকবার অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না তাঁর ছেলে মারা গেছেন। একবার ঘরে তো আরেকবার রাস্তার দিকে চেয়ে ছিলেন।

নূয়ীমের মায়ের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। চারিদিক যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেছে তাদের কান্নায়। মায়ের কান্না দেখে প্রতিবেশীরাও চোখে পানি ধরে রাখতে পারেনি। সন্তানহারা মায়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবেশীসহ আত্মীয়-স্বজনরাও কাঁদছিল আর বিলাপ করছিল।নাজমুস সুমন আরো জানান, ডা. নূয়ীমের সহপাঠীরা গতকাল দুপুরে সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে প্রথম জানাজা শেষে মৃতদেহ অ্যাম্বুল্যান্সে করে ভালুকার উদ্দেশে রওনা দেন। পৌঁছেন এশার নামাজের পর। রাত ১০টার দিকে তাঁর গ্রামের বাড়ি বান্দিয়া পূর্বপাড়ায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।