হঠাৎ গোপন বৈঠক বাতিল করলেন সৌদি যুবরাজ

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে সাক্ষাতের জন্য আগামী সপ্তাহের মার্কিন সফরটি বাতিল করেছেন। তার সফরের খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ভয়ে তিনি এ পদক্ষেপ নিলেন বলে গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ।একজন শান্তিকামী হিসেবে মোহাম্মদ বিন সালমানের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার সুযোগ করে দিতে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইলের মধ্যকার বিতর্কিত চুক্তিটির আঞ্চলিক সমর্থন বাড়াতে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের প্রবীণ উপদেষ্টা জারেড কুশনার এই বৈঠকের পরিকল্পনা করেছিলেন। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই মঙ্গলবার এ খবর দিয়েছে।বৈঠকটির প্রস্তাবে এটাই প্রকাশ পায় যে, সৌদি আরবও ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পদক্ষেপ নিতে পারে।

সৌদি যুবরাজের ৩১ আগস্ট ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু শনিবার সফরের খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সফরটি বাতিল করা হয়েছে বলে ওয়েবসাইটটি জানিয়েছে।সৌদি যুবরাজ স্বাভাবিকভাবেই এই সফরটি গোপন রাখতে চেয়েছিলেন, যাতে করে দেশের অন্য প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে পরিকল্পনার সুযোগ না পায়।

আগস্টের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইল একে অপরের সীমানায় দূতাবাস তৈরিসহ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় বিতর্কিত এক চুক্তির ঘোষণা করে।১৯৭৯ সালে মিসর ও ১৯৯৪ সালে জর্ডানের নেয়া পদক্ষেপের অনুসরণ করে ইসরাইলের সাথে আরব তৃতীয় দেশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত এই শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

এদিকে, ফিলিস্তিনি গ্রুপগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত-ইসরাইলের চুক্তির নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, এতে ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে অবহেলা করা হয়েছে। তারা ফিলিস্তিনের পক্ষে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।সৌদি আরব গত বুধবার এই চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করে।জার্মান সফর শেষে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই চুক্তি সম্ভাব্য অবদান রাখবে বলে বর্ণনা করেন। এটি ছিল চুক্তির বিষয়ে রিয়াদের প্রথম সরকারি প্রতিক্রিয়া।তবে ইতিবাচক মন্তব্য দিলেও যুবরাজ ফয়সাল ইসরাইলের সাথে সৌদির সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি।