গরুর খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় কৃষককে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

ভোলা সদরের পূর্ব ইলিশায় জমির বিরোধের জেরে এক কৃষককে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে তারই বোন জামাই।ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের শিকার মোঃ মনসুর নামের ওই কৃষক জানিয়েছে, সম্প্রতি জমি নিয়ে তার বোন জামাই রশিদ মল্লিকের সঙ্গে তার বিরোধ হলে গত ২৫ জুলাই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর গরুর খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে ঘন্টাব্যাপী অমানবিক নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে তাকে জোর করে গরুর গোবর খাইয়ে দেয়া হয়।

এমনকি নির্যাতনের ওই ভিডিও তারা ছড়িয়ে দেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।নির্যাতনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের টনক নড়ে। ৮ আগস্ট (শনিবার) সকালে নির্যাতনে অভিযুক্ত রশিদ মল্লিককে আটক করে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।

আরো পড়ুন….গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ।পুলিশ উক্ত ঘটনায় দাবি করেছিলো আত্মরক্ষার্থে তারা গুলি চালিয়েছিলো। তবে বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, মেজর রাশেদ খান গাড়ি থেকে হাত উঁচু করে নামার পরপরই বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বরত ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী কোনো কথাবার্তা না করেই তাকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি করেন।

সূত্র থেকে জানা যায়, একটি ট্রাভেল ভিডিওর জন্য কক্সবাজার শুটিং করতে গিয়েছিলেন রাশেদ। এসময় তার সাথে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফিল্ম এন্ড মিডিয়া বিভাগের তিনজন শিক্ষার্থীও ছিলেন। পরে শুটিং শেষে গত ৩১ জুলাই রাত ৯টার দিকে তারা যখন টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ এলাকায় পুলিশ চেকপোস্ট অতিক্রম করার সময় এ ঘটনা ঘটে।তথ্য অনুযায়ী, মেজর (অব.) রাশেদ ফুল হাতা কম্ব্যাট গেঞ্জি, কম্ব্যাট ট্রাউজার এবং ডেজার্ট বুট পরিহিত অবস্থায় দেখে স্থানীয়রা ডাকাত সন্দেহে পুলিশকে খবর দিয়েছিলো।

পরে, নিজস্ব প্রাইভেট কারযোগে মেরিন ড্রাইভ হয়ে কক্সবাজারে যাওয়ার পথে শামলাপুরের পূর্বে বিজিবি চেকপোস্টে তাদেরকে থামালেও পরিচয় প্রাপ্তির পর ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু ডাকাত আসছে খবর পেয়ে এসআই লিয়াকত ফোর্স নিয়ে রাত ৯টার দিকে শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে রাশেদের গাড়ি থামান। এসময় মেজর (অব.) রাশেদ তাদেরকে পরিচয় প্রদান করলে প্রথমে তাদেরকে গাড়ি থেকে নামতে বলা হয়। পুলিশের নির্দেশ অনুযায়ী সিফাত হাত উচু করে গাড়ি থেকে নেমে পেছনের দিকে যান। কিন্তু মেজর (অব.) রাশেদ গাড়ি থেকে হাত উচু করে নামার পরপরই এসআই লিয়াকত তাকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি করেন এবং সিফাতকে আটক করে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যান।