সরকারি ওয়েবসাইটে ‘মৃত’ ব্যক্তি ফল খাচ্ছেন বিছানায়!

জীবিত মানুষটাকে সরকারি ওয়েবসাইট ‘মৃত’ ঘোষণা করে দিয়েছিল! বিষয়টি প্রথমে নজরে আসে বিদেশে থাকা আত্মীয়দের। তারা ফোন করে হাসপাতালে খোঁজ নিলে জানা যায়, নিজের বিছানায় বসে ফল খাচ্ছেন ৭৯ বছরের কানাইলাল চট্টোপাধ্যায়।

এমন ঘটনায় ভারতের সল্টলেকের যে হাসপাতালে ওই রোগী ভর্তি, সেই হাসপাতাল ও রাজ্য সরকারের উপরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার আত্মীয়েরা। যদিও বুধবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় যে সরকারি ওয়েবসাইটের কারণে কানাইলাল বাবুর ‘মৃত্যু’ ঘটেছিল, বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) তার সম্পর্কে সেই তথ্যই তুলে নিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের ওয়েবসাইটটি।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, রাজ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি কোভিড রোগীদের সম্পর্কে তথ্য আপলোড করা হচ্ছে এই ওয়েবসাইটে। যাতে বাড়িতে বসেই আত্মীয়রা রোগীর শারীরিক অবস্থার কথা জানতে পারেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কানাইলাল চট্টোপাধ্যায়ের নাম দিলে ওয়েবসাইট জানাচ্ছে, তার সম্পর্কে কোনও তথ্য তাদের কাছে নেই। আর বুধবার সন্ধ্যায় তারাই জানিয়েছিল, ‘দুঃখের সঙ্গে জানানো হচ্ছে যে রোগী মারা গিয়েছেন’।

কানাইলাল চট্টোপাধ্যায়ের শ্যালক দেবাশিস ভট্টাচার্য বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, সল্টলেকের বাসিন্দা তার দিদি ও জামাইবাবু নিঃসন্তান। কানাইলাল বাবুর ভাইপো-ভাইঝিদের অনেকেই আমেরিকায় প্রবাসী। তারাই সেই অর্থে কানাইলাল বাবুদের দেখভাল করেন। গত ২২ মার্চ অসুস্থতা নিয়ে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। নিয়ম মেনে তখন কোভিড পরীক্ষা করা হয় এবং তার ফল নেগেটিভ আসে। কিছু দিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে কানাইলাল বাবুর ক্যানসার ধরা পড়ে। হাসপাতাল জানায়, ভর্তি রেখে দীর্ঘ চিকিৎসার প্রয়োজন।

দেবাশিস বলেন, ‘কানাইলাল কেন্দ্রের স্বাস্থ্যবিমার অধীনে চাকরি করতেন। কিন্তু সল্টলেকের এই হাসপাতালে ওই বিমার অধীনে চিকিৎসার সুবিধা নেই। আমরা তাই বাইপাসের কাছের একটি হাসপাতালে তাকে স্থানান্তরিত করার কথা চিন্তা করি। হাসপাতাল থেকে ছাড়ার আগে আবার কোভিড পরীক্ষা করানো হয়। শুক্রবার সেই পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ আসে।’

ফলে তাকে স্থানান্তরিত করার পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। রিপোর্ট পজেটিভ আসার পরে নিয়ম মেনে সরকারি ওয়েবসাইটে কানাইলালের শারীরিক অবস্থার কথা আপলোড হতে শুরু করে এবং বিদেশে বসে তার ভাইপো-ভাইঝিরা নিয়মিত সেই ওয়েবসাইট দেখতে থাকেন। বুধবার আমেরিকা থেকে কানাইলাল বাবুর স্ত্রীর কাছে ফোন আসে। কাঁদতে কাঁদতে এক ভাইঝি তাকে কাকার মৃত্যুসংবাদ জানান।

দেবাশিসের কথায়, ‘খবর পেয়ে হাসপাতালে যাই। নীচে রিসিপশনে বলা হলে, উপর থেকে খোঁজ নিয়ে জানানো হয়, তিনি ফল খাচ্ছেন।’ তার প্রশ্ন, ‘হাসপাতাল থেকে যে তথ্য সরকারকে দেওয়া হচ্ছে, সেটাই তো আপলোড করা হচ্ছে। তার মানে তো জলজ্যান্ত মানুষকে মৃত বলে হাসপাতাল সরকারকে জানিয়েছিল?’বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন দেবাশিস ভট্টাচার্য। বলেছেন, স্বাস্থ্য ভবনের কাছেও আলাদা অভিযোগ জানানো হবে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদিও এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।